সারাবাংলা

বাউফলে পুলিশকে জড়িয়ে ‘ভিত্তিহীন’ সংবাদ প্রচারের অভিযোগ, ক্ষোভ স্থানীয়দের

  বাংলাদেশ প্রতিদিন 10 May 2026 , 7:38:06

পটুয়াখালীর বাউফল থানার এক পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মাদকসেবীকে টাকার বিনিময়ে ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগ এনে প্রকাশিত একটি সংবাদকে কেন্দ্র করে এলাকায় তীব্র বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগের সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অভিযুক্ত যুবকের পরিবার, স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শী ও সচেতন মহল। তাদের দাবি, তথ্য-প্রমাণ যাচাই ছাড়াই উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে সংবাদটি প্রকাশ করা হয়েছে।

জানা গেছে, সম্প্রতি একটি অনলাইন সংবাদমাধ্যমে “মাদকসেবীকে আটকের পর অর্থ লেনদেনে মুক্তি” শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। সেখানে দাবি করা হয়, বাউফল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) বারাকাত এক যুবককে মাদকসহ আটক করে ২০ হাজার টাকার বিনিময়ে ছেড়ে দেন।
তবে অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা বাউফল পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা ফেরদৌসের মা হাওয়া বেগম বিষয়টি সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন।

তিনি বলেন, “আমার ছেলে মাদকসেবী নয়। সে বন্ধুদের সঙ্গে কলেজের পরিত্যক্ত ভবনে আড্ডা দিচ্ছিল। খবর পেয়ে আমি সেখানে গেলে এসআই বারাকাত আমার জিম্মায় তাকে ছেড়ে দেন। এখানে কোনো টাকা-পয়সার লেনদেন হয়নি। যারা মিথ্যা সংবাদ ছড়িয়েছে, আমি তাদের বিচার চাই।”

ঘটনার সময় উপস্থিত স্থানীয় জামায়াত নেতা ফিরোজও একই দাবি করেন। তিনি বলেন, “আমার সামনেই ছেলেটিকে তার মায়ের জিম্মায় দেওয়া হয়েছে। সেখানে কোনো মাদকদ্রব্য পাওয়া যায়নি এবং কাউকে মাদক সেবন করতেও দেখা যায়নি। অথচ কোনো প্রমাণ ছাড়াই অর্থ লেনদেনের কাল্পনিক তথ্য প্রচার করা হয়েছে।”

আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, আদালতের রায় বা মেডিকেল রিপোর্ট ছাড়া কাউকে ‘মাদকসেবী’ হিসেবে উল্লেখ করা মানহানিকর হতে পারে। এছাড়া সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদনে ‘অজ্ঞাত প্রত্যক্ষদর্শী’র বরাত দেওয়া হলেও কোনো অডিও, ভিডিও বা সুনির্দিষ্ট প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়নি, যা সাংবাদিকতার নীতিমালার সঙ্গে সাংঘর্ষিক।

অভিযুক্ত উপ-পরিদর্শক (এসআই) বারাকাত বলেন, “নিয়মিত টহলের সময় বাউফল সরকারি কলেজের একটি অন্ধকার কক্ষে আলো দেখে সন্দেহ হলে সেখানে গিয়ে কয়েকজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। পরে তাদের পরিবারের জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। একটি স্বার্থান্বেষী মহল পরিকল্পিতভাবে আমার সম্মান ক্ষুণ্ণ করতে মিথ্যা তথ্য ছড়াচ্ছে।”

এ বিষয়ে বাউফল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সিরাজুল ইসলাম বলেন, “বিষয়টি জানার পর আমি নিজেই তদন্ত করেছি। ছেলের মা, স্থানীয় লোকজন ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্যে স্পষ্ট হয়েছে যে অভিযোগটি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। এটি পুলিশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করার অপচেষ্টা।”

সচেতন মহলের দাবি, দায়িত্বশীল সাংবাদিকতা নিশ্চিত করতে তথ্য যাচাই ও উভয় পক্ষের বক্তব্য নেওয়ার সংস্কৃতি জোরদার করা জরুরি। অন্যথায় বিভ্রান্তিকর সংবাদ সাধারণ মানুষের মধ্যে ভুল বার্তা ছড়িয়ে দিতে পারে।

আজকালের কন্ঠ/আর বি

আরও খবর:

Sponsered content