বাংলাদেশ প্রতিদিন 19 September 2026 , 2:37:33
পাবনা সদর উপজেলার দোগাছি ইউনিয়নে ১০ বছরের শিশু কামরুন্নাহার কলিকে ধর্ষণের পর নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনায় উত্তাল হয়ে উঠেছে পুরো এলাকা। ঘটনায় জড়িত দুই আসামিকে পুলিশ গ্রেপ্তার করলেও ক্ষোভ থামেনি স্থানীয়দের।

শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) জুমার নামাজ শেষে বিক্ষুব্ধ শত শত জনতা একজোট হয়ে প্রধান অভিযুক্ত মোস্তফার বাড়িতে হামলা ও ব্যাপক ভাঙচুর চালিয়ে তা ধ্বংসস্তূপে পরিণত করেছে।
স্থানীয়রা জানায়, শুক্রবার জুমার নামাজ শেষে ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী মিছিল নিয়ে প্রধান অভিযুক্ত মোস্তফা কামালের (৫৫) দুতলা বাড়িতে চড়াও হয়। একপর্যায়ে তারা বাড়ির দেয়াল, দরজা ও জানালার গ্রিল ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে। কয়েক ঘণ্টা ধরে চলা এই ধ্বংসযজ্ঞে দুতলা বাড়িটি পুরোপুরি ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়। এ সময় বাড়িতে থাকা আসবাবপত্র ও ভাঙচুর করা জানালার গ্রিল লুটপাট করে নিয়ে যায় উত্তেজিত জনতা।
এদিকে হামলার আশঙ্কা থাকায় বৃহস্পতিবার থেকেই ওই বাড়ির সামনে পুলিশ মোতায়েন থাকলেও বিক্ষুব্ধ জনতাকে সামাল দিতে না পেরে পুলিশ ঘটনাস্থল ত্যাগ করে বলে জানায় স্থানীয়রা।
স্থানীয় বাসিন্দা পারভেজ জানান, বৃহস্পতিবার থেকেই এখানে কয়েক গাড়ি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ছিল। আজ সবাই এসে হামলা চালাতে গেলে প্রশাসন তাদের থামানোর চেষ্টা করলেও সবশেষে সেটা পারেনি। পরে প্রশাসন চলে গেছে। মোস্তফা যে কাজ করেছে তাতে কারো মাথা ঠিক নেই।
বিক্ষুব্ধ কয়েকজনের সঙ্গে কথা বললে তারা জানান, এমন একটি শিশু বাচ্চাকে ধর্ষণের পর নির্মমভাবে হত্যা করেছে ওই নরপিশাচ। জনতার হাতে ছেড়ে দিলে ওর সঠিক বিচার হতো। ওই অমানুষের কোনো চিহ্ন এলাকায় রাখা হবে না।
এ ব্যাপারে পাবনা সদর থানার ওসি মো. তরিকুল ইসলাম বলেন, ঘটনাস্থলে পুলিশ মোতায়েন ছিলো। বিক্ষুব্ধ জনতাকে নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করা হয়েছে। কিন্তু কোনোভাবেই তাদের নিয়ন্ত্রণ করা যায়নি। তবে বড় ধরনের দুর্ঘটনা এড়াতে ওই বাসার মালামাল আমরা আগেই সরিয়ে নিয়েছিলাম।
এ ব্যাপারে হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড ডিফেন্ডার পাবনা জেলার সদস্য সচিব আব্দুর রব মন্টু বলেন, আইন, বিচার ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতি আস্থাহীনতার জায়গা থেকে মানুষ আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার বিষয়টি আসে। প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তাও এর জন্য দায়ী। এটি কোনোভাবেই সমর্থনযোগ্য নয়। এক্ষেত্রে রাষ্ট্রযন্ত্র ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে তার ভূমিকা সঠিকভাবে পালন করতে হবে। কারণ প্রতিবাদের নামে আইন হাতে তুলে নেওয়ার যে কালচার চর্চা হচ্ছে, এটি সবার জন্য উদ্বেগজনক।
এর আগে, গত ৯ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় কেনাকাটা করতে গিয়ে নিখোঁজ হয় শিশু কামরুন্নাহার কলি। অনুসন্ধানের একপর্যায়ে ১৬ সেপ্টেম্বর সকালে স্থানীয় একটি পরিত্যক্ত ডোবা থেকে তার বস্তাবন্দি মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পুলিশি তদন্তে বেরিয়ে আসে, মোস্তফা ও তার ভাড়াটিয়া ইয়াছিন আলী (২১) শিশুটিকে মুদি দোকানের পেছনের কক্ষে নিয়ে পালাক্রমে ধর্ষণ করে। পরিচয় গোপন রাখতে পরে তাকে শ্বাসরোধে হত্যা করে লাশ বস্তাবন্দি করে প্রথমে খাটের নিচে ও পরে ডোবায় রাখা হয়। ঘটনার প্রধান দুই আসামি মোস্তফা কামাল ও ইয়াছিন আলীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
পুলিশ জানায়, অভিযুক্তদের মোবাইল থেকে উদ্ধার করা তথ্য ও ছবি থেকে পূর্বপরিকল্পিতভাবে এই অপরাধ ঘটানোর প্রমাণ মিলেছে। আসামিদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা ও দ্রুত চার্জশিট দাখিলের প্রক্রিয়ার কথা জানানো হলেও অভিযুক্তের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে।






