অপরাধ

শরীয়তপুরের ভেদরগঞ্জ উপজেলায় দিনের বেলা পেট্রোল ও ডিজেলের সংকট দেখিয়ে রাতে রমরমা ব্যবসা

  বাংলাদেশ প্রতিদিন 12 April 2026 , 10:20:14

শরীয়তপুরের ভেদরগঞ্জ উপজেলার সখিপুরে দিনের বেলা পেট্রোল ও ডিজেলের সংকট দেখিয়ে গভীর রাতে অবৈধভাবে বিক্রি করছেন মেসার্স ফারিয়া ফিলিং স্টেশনের মালিক ফারুক মাদবর।

শুক্রবার (১০ এপ্রিল) রাত ১১ টার দিকে পাম্প মালিককে কয়েকটি ট্রাক ও পিকআপ ও গেলানে ডিজেল বিক্রি করতে দেখা গেছে।

এদিকে পাম্প মালিককে তেল বিক্রি করতে ট্যাগ অফিসার ও উপ-সহকারি কৃষি অফিসার নিষেধ করলেও মানছেন না তিনি। এ নিয়ে কৃষক, মোটরসাইকেল চালকসহ সচেতন মহলে বইছে সমালোচনার ঝড়।

জানা যায়, ২ দিন পর গত বৃহস্পতিবার এ পাম্পে একটি পেট্রোল ভর্তি তেলের গাড়ি আসে। সেই খবরে শুক্রবার ভোর থেকেই প্রয়োজনের তাগিদে তেল নিতে প্রায় ২ কিলোমিটার মোটরসাইকেল চালক লাইন ধরে দাড়িয়ে ছিলো। কিন্তু দালাল সিন্ডিকেট এর কারনে শৃঙ্খলা মানছেন না একটা গ্রুপ। পরে সন্ধ্যার আগেই পাম্পটিতে তেল নাই বলে জানিয়ে দেন পাম্প কর্তৃপক্ষ। যার কারনে লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও তেল না নিয়েই বাড়িতে গিয়েছেন অনেকই। অন্যদিকে কৃষকদেরও চাহিদামত তেল না পাওয়ারও অভিযোগ উঠেছে। সরকারের নিযুক্ত ট্যাগ অফিসারদের আদেশ পাম্প কর্তৃপক্ষ শুনছেন না এমনটাও বলছেন কর্মকর্তারা। দেশে জ্বালানি তেল (বিশেষ করে ডিজেল) সরবরাহে কৃত্রিম সংকট তৈরি করে অসাধু চক্র দিনের বেলা পাম্প বন্ধ বা তেল নেই অজুহাতে সাধারণ গ্রাহকদের ভোগান্তি বাড়াচ্ছে বলছেন স্থানীয়রা।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, মেসার্স ফারিয়া ফিলিং স্টেশনের মালিক ফারুক মাদবর প্রতিনিয়ত গভীর রাতে অবৈধভাবে ডিজেল বিক্রি করছে। এবং পাম্পটিতে রাতে কয়েকটি মোটরসাইকেলে পেট্রোল দিতে দেখা গেছে। সরকারের ঘোষণা অনুযায়ী রাত ৮ টা বাজে পাম্পের কার্যক্রম বন্ধ থাকার কথা থাকলেও তিনি তা মানছেন না। বিশেষ ক্ষমতাসীন ব্যক্তিদের স্পেশাল তদবিরে ১০০ লিটার বা তারো বেশি ডিজেল দিচ্ছেন তারা। তবে লাইনে দাঁড়ানো কৃষক ও জেলেদের তেল সংকট দেখাচ্ছেন। দালালদের দৌড়ত্তের কারনে অন্যদিকে পেট্রোল নিতে আসা গ্রাহকদের ও হয়রানি হতে হচ্ছে।

ট্রাক চালক শামসুদ্দিন বলেন, আমি ২ হাজার টাকার ডিজেল কিনেছি। প্রতিদিন রাতে আমরা তেল ক্রয় করি এ পাম্প থেকে।

উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা রাজু বলেন, রাতের আধারে ১১ টার দিকে আমি খবর পেয়ে আসি পাম্পে। দেখি ট্রাকে ডিজেল বিক্রি করছে। আমি নিষেধ করলেও পাম্প কর্তৃপক্ষ শুনছেন না। আমি বিষয়টি এসিল্যান্ড স্যারকে জানিয়েছি। স্যার ব্যবস্থা নিবেন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে মেসার্স ফারিয়া ফিলিং স্টেশনের মালিক ফারুক মাদবর বলেন, রাতে তেল বিক্রি করলে কি হয়েছে। ব্যবসা প্রতিষ্ঠান আমার তাই আমিই ঠিক করব কাকে তেল দেব আর কাকে তেল দেব না। এ নিয়ে আমি কাউকে কৈফিয়ত দেব না। এছাড়াও তিনি আরো বলেন, যাদের গাড়িতে তেল দেয়া হয়েছে তারা আমার নিজস্ব লোক, তাই তেল দিয়েছি এবং আমি সরকারের নিয়ম-নীতি মেনেই ব্যবসা করছি।

এ বিষয় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হাফিজুল হক বলেন,রাতে তেল বিক্রির বিষটি মাত্র জানতে পারলাম। আমি এসিল্যান্ডকে বলছি। সরজমিনে গিয়ে এসিল্যান্ড যথাযথ ব্যবস্থা নিবেন।

আজকালের কন্ঠ/আর বি

আরও খবর:

Sponsered content