সারাবাংলা

লালমনিরহাটে নেসকোর গাফিলতি ২৫০ ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও ব্যাংক-বীমা ৭২ ঘন্টা বিদ্যুৎহীন

  বাংলাদেশ প্রতিদিন 18 June 2026 , 4:37:00

লালমনিরহাট নর্দান ইলেকট্রিসিটি সাপ্লাই কোম্পানি, নেসকোর গাফিলতিতে প্রায় ৭২ ঘণ্টা ধরে বিদ্যুৎহীন শহরের বাটা মোড়, জনতা মোড়, শাপলা মোড় ও স্টেশন রোড এলাকার ২৫০ ব্যবসা প্রতিষ্ঠান এবং ব্যাংক-বীমা অফিস। প্রচন্ড গরমে চরম ভোগান্তিতে পড়ে লাখ টাকার ক্ষতির মুখে পড়েছেন ব্যবসায়ীরা। বারবার অভিযোগ করেও সমাধান না পাওয়ায় নেসকোর বিরুদ্ধে চরম দায়িত্বহীনতার অভিযোগ উঠেছে।

সোমবার (১৬ জুন) রাত ৮টার থেকে বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) দুপুর পর্যন্ত প্রায় ৭২ ঘন্টা ধরে শহরের বাণিজ্যিক প্রাণকেন্দ্র অন্ধকারে ২৫০ ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও ব্যাংক-বীমা বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক হয়নি।

স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানান, সোমবার (১৬ জুন) রাত ৮টার দিকে একটি ট্রান্সফরমার হঠাৎ বিকল হয়ে যায়। এতে বাটা মোড়, জনতা মোড়, শাপলা মোড় থেকে স্টেশন রোড পর্যন্ত প্রায় ২৫০টি দোকান, শপিং মল, ওষুধের দোকান, রেস্তোরাঁ এবং ব্যাংক-বীমা অফিসের বিদ্যুৎ সরবরাহ সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়।

তাৎক্ষণিক নেসকো অফিসে অভিযোগ করা হলেও প্রায় ৭২ ঘণ্টা পেরিয়ে বৃহষ্পতিবার দুপুর পর্যন্ত বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক হয়নি। আরপি এস ও জেনারেটর দিয়ে কয়েকটি ব্যাংক ও বড় দোকান খোলা রাখা হলেও বেশিরভাগ ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের সাটার বন্ধ রাখতে বাধ্য হয়েছেন মালিকরা।

গোশালা বাজার সম্মিলিত ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি মোকছেদুর রহমান বলেন, প্রচণ্ড গরমে ফ্রিজের সব মালামাল নষ্ট হচ্ছে। মসজিদে অযু করার পানি নেই। কম্পিউটার দোকান, ফটোকপি, স্টুডিও একদম বন্ধ। একদিনেই আমরা কোটি টাকার ক্ষতির মুখে পড়েছি। নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ ছাড়া ব্যবসা অচল। পুরো বিষটি নেসকোর গাফিলতি।

তিনি আরো বলেন, শহরের ব্যস্ততম এই চারটি মোড়ের ব্যবসা বন্ধ থাকায় পুরো লালমনিরহাটের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড স্থবির হয়ে পড়েছে। ব্যাংক-বীমার লেনদেন বন্ধ থাকায় সাধারণ গ্রাহকরাও দুর্ভোগে পড়েছেন।

ব্যবসায়ী নেতারা হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, দ্রুত বিদ্যুৎ সংযোগ চালু না হলে এবং নেসকোর দায়িত্বহীন কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিলে তারা বৃহত্তর আন্দোলনে যাবেন। জেলা প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ভুক্তভোগীরা।

এ বিষয়ে লালমনিরহাট নেসকোর নির্বাহী প্রকৌশলী মাহমুদুর রহমান বলেন, অতিরিক্ত লোডের কারণে ট্রান্সফরমারটি পুড়ে গেছে। নতুন ট্রান্সফরমার লাগাতে হবে। কিন্তু ট্রান্সফরমার বসানোর জন্য প্রয়োজনীয় জায়গা পাওয়া যাচ্ছে না। কেউ জায়গা দিতে চাইছেন না। এটাই মূল জটিলতা।

তিনি আরো জানান, রংপুর থেকে এরই মধ্যে ট্রান্সফরমার লাগানোর জন্য দক্ষ জনবল আনা হয়েছে। জায়গা পাওয়া মাত্রই কাজ শুরু হবে। জায়গা পেলে ৫ থেকে ৬ ঘণ্টার মধ্যেই বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক করা সম্ভব।

আজকালের কন্ঠ/আর বি

আরও খবর:

Sponsered content