সারাবাংলা

খানসামায় তীব্র নদীভাঙনের কবলে সুবর্ণখুলী সাবুদের হাট দ্বিমুখী উচ্চ বিদ্যালয়

  বাংলাদেশ প্রতিদিন 18 May 2026 , 3:04:06

তীব্র নদীভাঙনের কবলে পড়ে যেকোনো মুহূর্তে নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যেতে পারে দিনাজপুরের খানসামা উপজেলার সুবর্ণখুলী সাবুদের হাট দ্বিমুখী উচ্চ বিদ্যার্লউপজেলার সীমানা দিয়ে দিয়ে প্রবাহিত ইছামতি নদীর অব্যাহত ভাঙনে বিদ্যালয়টির ভবনের একেবারেই কাছাকাছি চলে এসেছে নদী। ফলে চরম উৎকণ্ঠা আর আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষার্থী এবং তাদের অভিভাবকরা।

​স্থানীয় বাসিন্দা ও বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা গেছে, গত কয়েকদিনের টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলের কারণে নদীতে পানির চাপ বৃদ্ধি পাওয়ায় তীব্র ভাঙন দেখা দিয়েছে। ইতিপূর্বেই বিদ্যালয়ের সাইটে থাকা জায়গাটির একটি বড় অংশ নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। বর্তমানে ভাঙন যেভাবে ধেয়ে আসছে, তাতে যেকোনো মুহূর্তে বিদ্যালয়ের একটি ভবন ধসে পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, প্রতিদিন আতঙ্কের মধ্যে শিক্ষার্থীরা ক্লাস করছে। যেকোনো সময় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে—এমন আশঙ্কায় অনেক অভিভাবক তাদের সন্তানদের বিদ্যালয়ে পাঠাতে ভয় পাচ্ছেন। ফলে দিন দিন বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীর উপস্থিতির হার কমছে।

​বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণীর এক শিক্ষার্থী জানায়, ক্লাসে বসে পড়াশোনা করার সময় সারাক্ষণ ভয়ে থাকি, কখন যেন নদীর পাড় ভেঙে স্কুল ধসে পড়ে। আমাদের একটাই দাবি, দ্রুত নদী বাঁধ দিয়ে আমাদের স্কুলটা বাঁচানো হোক।”

​বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শ্রী প্রকাশ চন্দ্র রায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, “এই অঞ্চলে শিক্ষার আলো ছড়াতে বিদ্যালয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। কিন্তু যেভাবে নদীভাঙন শুরু হয়েছে, তাতে দ্রুত কোনো কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে এই অঞ্চলের শত শত শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে পড়বে। আমরা বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে জানিয়েছি।

​এ বিষয়ে ৩ নং আঙ্গারপাড়া ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান ও এলাকাবাসী জানান, জরুরি ভিত্তিতে এখানে জিও ব্যাগ বা স্থায়ী গাইড ওয়াল নির্মাণ করা না হলে স্কুলটি রক্ষা করা অসম্ভব হয়ে পড়বে। তারা পানি উন্নয়ন বোর্ড এবং স্থানীয় প্রশাসনের কাছে অবিলম্বে ভাঙন রোধে স্থায়ী ও টেকসই ব্যবস্থা গ্রহণের জোড় দাবি জানিয়েছেন।

​শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি রক্ষার্থে দ্রুত সরকারি হস্তক্ষেপই এখন একমাত্র ভরসা—এমনটাই মনে করছেন ভুক্তভোগী এলাকাবাসী।

আজকালের কন্ঠ/আর বি

আরও খবর:

Sponsered content