আইন-আদালত

মুরাদনগরে ভেজাল পানীয় ও অস্বাস্থ্যকর খাদ্য উৎপাদনের দায়ে ২ লাখ ৩০ হাজার টাকা জরিমানা

  বাংলাদেশ প্রতিদিন 9 June 2026 , 10:05:49

কুমিল্লার মুরাদনগরে শিশুদের জন্য ক্ষতিকর কৃত্রিম পানীয় ও অস্বাস্থ্যকর খাদ্যপণ্য উৎপাদনের অভিযোগে দুটি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়েছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। এ সময় দুই প্রতিষ্ঠানকে মোট ২ লাখ ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। পাশাপাশি একটি বেকারির কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।

সোমবার (৮ জুন) দুপুরে উপজেলার নবীপুর গ্রামে সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সাকিব হাছান খানের নেতৃত্বে এ অভিযান পরিচালিত হয়।

ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে একটি চক্র বিভিন্ন ধরনের রং, কেমিক্যাল ও পাউডার মিশিয়ে শিশুদের জন্য ক্ষতিকর খাদ্য ও পানীয় উৎপাদন করে বাজারজাত করে আসছিল। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ভ্রাম্যমাণ আদালত নবীপুর এলাকার কয়েকটি খাদ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানে অভিযান চালায়।

অভিযানে বাদল ফুড অ্যান্ড বেভারেজ লিমিটেডে একাধিক অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া যায়। প্রতিষ্ঠানটি সীমিতসংখ্যক পণ্যের অনুমোদন নিয়ে অনুমোদনবহির্ভূত আরও বিভিন্ন পণ্য উৎপাদন করছিল। এছাড়া উৎপাদনে ব্যবহৃত খাদ্য রং ও ফ্লেভারের বৈধ কাগজপত্র দেখাতে পারেনি কর্তৃপক্ষ। কারখানায় কর্মীদের ড্রেস কোড মানা হয়নি, নির্ধারিত তাপমাত্রায় সংরক্ষণের প্রয়োজনীয় কেমিক্যাল যথাযথভাবে রাখা হয়নি এবং প্রতিষ্ঠানে কোনো কেমিস্টও পাওয়া যায়নি।

এসব অপরাধে বাদল ফুড অ্যান্ড বেভারেজ লিমিটেডকে ২ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। জরিমানা অনাদায়ে তিন মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে চিহ্নিত অনিয়ম ও অসঙ্গতিগুলো সংশোধনের জন্য প্রতিষ্ঠানটিকে সাত দিনের সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়।

একই অভিযানে বি-বাড়িয়া বেকারিতে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে বাটার বন, কেক, বিস্কুট, ক্রিম বন, ক্রিম কেক ও ক্রিম রোল উৎপাদনের অভিযোগ প্রমাণিত হয়। এ ঘটনায় প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজারকে ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। জরিমানা অনাদায়ে তাকে দুই মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এছাড়া উৎপাদিত খাদ্যপণ্য জব্দ করে বেকারিটির কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণা করা হয়।

অভিযানে বিএসটিআইয়ের ইন্সপেক্টর আরিফ উদ্দিন, মুরাদনগর থানার এসআই আব্বাস আহমেদসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সাকিব হাছান খান বলেন, “জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় ভেজাল ও নিম্নমানের খাদ্যপণ্য উৎপাদনকারীদের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হবে। জনস্বার্থবিরোধী কোনো কর্মকাণ্ডে আমাদের জিরো টলারেন্স নীতি অব্যাহত রয়েছে ।

আজকালের কন্ঠ/আর বি

আরও খবর:

Sponsered content