স্বাস্থ্য

দুমকি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে: চিকিৎসা সরঞ্জামের সংকটে রোগীদের ভোগান্তি চরমে

  বাংলাদেশ প্রতিদিন 1 April 2026 , 11:29:52

পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি রোগীদের জন্য প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সামগ্রীর তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। গজ, ব্যান্ডেজ, ক্যানোলা, মাইক্রোপোর, হেক্সসল, সিরিঞ্জ ও স্যালাইন সেটের মতো নিত্যপ্রয়োজনীয় উপকরণ হাসপাতাল থেকে সরবরাহ না পাওয়ায় রোগীদের বাধ্য হয়ে বাইরে থেকে কিনতে হচ্ছে। এতে অতিরিক্ত খরচ ও দুর্ভোগে পড়ছেন সাধারণ মানুষ।

সম্প্রতি সরেজমিনে হাসপাতালটি ঘুরে দেখা যায়, ভর্তি রোগীদের জন্য শুধুমাত্র স্যালাইন পাওয়া গেলেও অন্যান্য প্রয়োজনীয় সামগ্রী হাসপাতালে মজুদ নেই। ফলে চিকিৎসা নিতে আসা রোগী ও তাদের স্বজনরা বিপাকে পড়ছেন।

হাসপাতালে ভর্তি শ্রীরামপুর ইউনিয়নের সোহেল(২৫) নামেবলেন, “সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে এসে যদি সব কিছু বাইরে থেকে কিনতে হয়, তাহলে আমাদের জন্য কষ্ট হয়ে যায়। গরিব মানুষ কোথায় যাবে?”

মহিলা ওয়ার্ডে ভর্তি থাকা আরেকজন রোগীর স্বজন রিনা অভিযোগ করে বলেন, “ডাক্তাররা প্রেসক্রিপশন দেন, কিন্তু প্রয়োজনীয় জিনিস হাসপাতালে পাওয়া যায় না। বাধ্য হয়ে বাইরে থেকে বেশি দামে কিনতে হচ্ছে।”

জ্বর ও কাশি নিয়ে ভর্তি থাকা রোগী সজিব(২৭) বলেন, “আমি কয়েকদিন ধরে ভর্তি আছি, প্রতিদিনই কোনো না কোনো জিনিস বাইরে থেকে কিনতে হচ্ছে। এতে চিকিৎসার খরচ অনেক বেড়ে যাচ্ছে।”

শুধু তাই নয়, বহুদিন ধরে মাঠপর্যায়ে জন্মনিয়ন্ত্রণ সামগ্রীর অভাব রয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মাঠকর্মীরা সাধারণত পাঁচ ধরনের জন্মনিয়ন্ত্রণ সামগ্রী দম্পতিদের মধ্যে বিলি করেন। এগুলো হলো কনডম, খাওয়ার বড়ি, আইইউডি, ইনজেক্টেবলস ও ইমপ্ল্যান্ট। কনডম ছাড়া বাকি সামগ্রীগুলো নারীদের ব্যবহারের জন্য। সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত হয় কনডম ও বড়ি। অধিদপ্তরের দেওয়া হিসাবে প্রতি মাসে মাঠকর্মীরা ৫০ লাখ ৩৫ হাজার কনডম ও ৩৮ লাখ ৫৫ হাজার সাইকেল বড়ি দম্পতিদের কাছে পৌঁছে দেন।

এই জিনিসগুলো চাহিদার তুলনায় খুবই অপ্রতুল।

এ বিষয়ে দুমকি উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ মীর শহীদুল হাসান বলেন, “এটা আমরা টেন্ডার প্রক্রিয়ার মাধ্যমে করে থাকি, এবার টেন্ডার প্রক্রিয়ায় পরিচালক মহোদয়ের এপ্রুভালের জন্য পাঠানো হলে সেখানে একটু জটিলতার সৃষ্টি হয় ফলে এখনো এগুলো কিনতে পারিনি।তার পরেও আমরা বিভিন্ন উৎস থেকে এগুলো সংগ্রহের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। তবে আশা করছি ১৫ দিনের মধ্যে টেন্ডার প্রক্রিয়া হয়ে যাবে এবং আমরা ঠিকাদারের মাধ্যমে এই জিনিসগুলো ব্যবস্থা করতে পারব। ”

স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত হাসপাতালের সরঞ্জাম সংকট নিরসনে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন। না হলে সাধারণ মানুষের চিকিৎসা সেবা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হবে।

আজকালের কন্ঠ/আর বি

আরও খবর:

Sponsered content