সারাবাংলা

কালীগঞ্জে স্কুল মাঠ দখল করে সবজি চাষ

  বাংলাদেশ প্রতিদিন 30 March 2026 , 6:21:13

কালীগঞ্জে বিদ্যালয়ের খেলার মাঠ দখল করে সবজি চাষের অভিযোগ উঠেছে। এতে প্রতিদিন সমাবেশ ও খেলাধুলা বন্ধ রয়েছে।ঝিনাইদহ কালীগঞ্জ উপজেলার ছোট সিমলা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এ ঘটনা ঘটেছে।এছাড়া শিক্ষার্থীরা রাস্তা থেকে নেমে বারান্দা দিয়ে শ্রেনিকক্ষে প্রবেশ করছে আবার স্কুল ছুটি হলে বারান্দা দিয়ে বাড়ি চলে যাচ্ছে।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক স্কুলের মাঠে ট্রাক্টর দিয়ে চাষ করে সবজি ক্ষেত করেছেন।এ ঘটনায় শিক্ষার মান নিয়ে ক্ষোভে ফুঁসছে এলাকাবাসী।ছোট সিমলা সরকারি প্রাথমিক স্কুল মাঠে শিক্ষার্থীদের পদচারণা নেই।ভবনের বিভিন্ন কক্ষে দু-একজন শিক্ষার্থী বসে আছে। বাকিগুলো ফাঁকা।কিছু শিক্ষক গল্প করছে আবার কোন কোন শিক্ষক বাইরে দাড়িয়ে শিক্ষার্থীদের সাথে খোস গল্প করছে।বেশ কয়েকজন অভিভাবক ও স্থানীয়রা ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, সন্তানদের স্কুলে ভর্তি করেও যদি মেধার বিকাশ না হয়, তাহলে শিক্ষার্থীরা উৎসাহ হারাবে। স্কুলে টিফিনের খাবার খাবার পরে ও বিকালে বিদ্যালয়ের মাঠে শিক্ষার্থীরা খেলা করে।

বিদ্যালয়ের একমাত্র মাঠটি দখল করে বিভিন্ন প্রকার সবজি চাষ করায় শিক্ষার্থীরা খেলাধুলা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।বিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের খেলার মাঠটি নেট দিয়ে ঘিরে ভেতরে বিভিন্ন সবজি চাষ করছেন এমতাবস্থায় শিক্ষার্থীসহ এলাকাবাসীর দাবি যথাযথ কর্তৃপক্ষ যেন শিশু শিক্ষার্থীদের খেলার মাঠ পূনরুদ্ধারে দ্রæত ব্যবস্থা গ্রহন করে।বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের দৈনিক সমাবেশ ও খেলাধুলার কোন মাঠ নেই। মাঠ না থাকায় শিক্ষার্থীদের শারিরীক বিকাশ বাধাগ্রস্থ হচ্ছে।
বর্তমানে যে অবস্থা খেলার মাঠ তো দূরের কথা, বিদ্যালয় থেকে বের হয়ে সামনে দাঁড়ানোর মতো একচিলতে জায়গা নেই। মাঠ সংকটে শিশু শিক্ষার্থীদের খেলাধুলা, জাতীয় সংগীত, শরীরচর্চা হয় না। ফলে ওই বিদ্যালয়ের শিশু শিক্ষার্থীদের মেধা বিকাশে ও সুস্থ শরীর গঠন বাধাগ্রস্থ হচ্ছে। শিশু শিক্ষার্থীদের থাকতে হয় জেলখানার বন্দিদের মতো।অত্র বিদ্যালয়ে প্রথম শ্রেনি থেকে পঞ্চম শ্রেনির শ্ক্ষিার্থী ও এলাকার শিক্ষার্থীরা তাদের অবসর সময়ে খেলাধুলা করে, খেলাধুলাও পড়া লেখার একটি অংশ।

এতে বিঘœ হচ্ছে প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষার পরিবেশ।খেলাধুলার চর্চা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে শিক্ষার্থীরা। যাতায়াতে পড়তে হচ্ছে ভোগান্তি।অভিভাবক ও শিক্ষার্থীরা বলছেন,যদি এই মাঠ সবজি চাষের দখলে চলে যায়,তাহলে কোমলমতি শিশুদের আর কোনো স্বপ্ন থাকবে না।ছোট সিমলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেনির কয়েকজন ছাত্র বলেন, আমারা ফুটবল খেলতে চাই মাঠে।কিন্তু এখন মাঠে খেলতে পারি না। আমরা পড়তে এসেছি, এখানে খেলার মাঠ দখল করে সবজি চাষ দেখতে চাই না।পড়ালেখার পাশাপাশি খেলাধুলা না করতে পারলে আমরা পিছিয়ে যাবো। খেলাধুলা না করতে পারলে আমরা বিভিন্ন দিকে চলে যেতে পারি। কারণ আমাদের এখানে মাদকের আড্ডা বেশি হয়।

এ ব্যাপারে ছোট সিমলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক হাফিজুর রহমানের সাথে সবজি চাষের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি কথা বলতে রাজি হয়নি।

কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার রেজওয়ানা নাহিদ বলেন, বিষয়টি উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার কে জানানো হয়েছে তিনি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করবেন।

আজকালের কন্ঠ/আর বি

আরও খবর:

Sponsered content