কর্পোরেট

কুড়িগ্রামে ভাঙা সড়কে বেড়েছে জনদুর্ভোগ নির্ধারিত সময়েও শেষ হয়নি সংস্কার কাজ

  বাংলাদেশ প্রতিদিন 26 April 2026 , 5:29:07

কুড়িগ্রামের রাজারহাট-আনন্দবাজার সড়কের সংস্কার কাজ নির্ধারিত সময় পার হলেও শেষ হয়নি। ফলে প্রতিদিন চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে এ সড়ক ব্যবহারকারী হাজারও মানুষের। দীর্ঘদিন ধরে খনন করে ফেলে রাখা সড়কের বিভিন্ন অংশ এখন কার্যত চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়েছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, সংস্কারের নামে সড়কটি খুঁড়ে ফেলে রাখা হলেও দীর্ঘ সময় কাজ বন্ধ থাকায় পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। আগে থেকেই ভাঙাচোরা ও খানাখন্দে ভরা সড়কটি এখন আরও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

বৃহস্পতিবার (২৫ এপ্রিল) সরেজমিনে দেখা গেছে, রাস্তাটির কোথাও কোথাও পুরোনো ইট-পাথর উল্টে পড়ে আছে, আবার কোথাও গভীর গর্ত তৈরি হয়েছে, যার কারণে প্রতিদিনই দুর্ঘটনার শঙ্কা নিয়ে চলাচল করছে পথচারীসহ স্থানীয়রা। প্রায় ১২ কিলোমিটার দীর্ঘ এই গুরুত্বপূর্ণ সড়কটি রাজারহাট উপজেলা সদরের সঙ্গে উমর মজিদ ইউনিয়ন হয়ে উলিপুর-কুড়িগ্রাম সড়কের সংযোগ স্থাপন করেছে। প্রতিদিন এই পথে চলাচল করে অসংখ্য যানবাহন ও পথচারী। বিশেষ করে অন্তত ১৫টি গ্রামের প্রায় ৩০ হাজার মানুষের জন্য এটি প্রধান যোগাযোগ মাধ্যম।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ২০২৩ সালে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) এর রুরাল কানেকটিভিটি ইমপ্রুভমেন্ট প্রজেক্টের আওতায় প্রায় ১৭ কোটি ৬৬ লাখ টাকার এই সড়ক সংস্কার কাজের টেন্ডার আহ্বান করা হয়। পরে কম দরে কাজটি পায় একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। ২০২৪ সালের আগস্টে কাজ শুরু হলেও খনন কার্যক্রমের পর দীর্ঘ সময় বন্ধ থাকায় জনদুর্ভোগ চরমে পৌঁছায়। যদিও চুক্তি অনুযায়ী ২০২৬ সালের ৩০ জানুয়ারির মধ্যে কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও, বাস্তবে অগ্রগতি খুবই ধীরগতির।

সড়কের এমন বেহাল অবস্থার কারণে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ মানুষ, রোগী ও শিক্ষার্থীরা। জরুরি প্রয়োজনে অ্যাম্বুলেন্স কিংবা ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি প্রবেশ করতে না পারার বিষয়টি স্থানীয়দের উদ্বেগ আরও বাড়িয়ে তুলেছে।

অটোচালক শাহাআলম বলেন, রাস্তা খুঁড়ে রেখে কাজ বন্ধ রাখায় এখন গাড়ি চালানোই দায়। প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়ে চলতে হচ্ছে।স্থানীয় বাসিন্দা বাদশাহ মিয়া বলেন, এই রাস্তার করুন অবস্থা। খানাখন্দে ভরা, সেই সাথে বৃষ্টি হলে বিপদ আরও বেড়ে যায়। প্রতিদিনই রাস্তাটিতে দুর্ঘটনাও ঘটছে, দেখার কেউ নাই।

এ বিষয়ে ঠিকাদার খায়রুল কবির রানা জানান, কিছু জটিলতার কারণে কাজ বন্ধ ছিল, তবে বর্তমানে পুনরায় কাজ শুরু হয়েছে। দ্রুত কাজ শেষ করার চেষ্টা চলছে।রাজারহাট উপজেলা প্রকৌশলী (অতিরিক্ত দায়িত্ব) প্রদীপ কুমার বলেন, কিছুদিন কাজ বন্ধ ছিল। এখন ঠিকাদারের সঙ্গে কথা হয়েছে। তিনি দ্রুত কাজ সম্পন্ন করার আশ্বাস দিয়েছেন।

আজকালের কন্ঠ/আর এস

আরও খবর:

Sponsered content