আন্তর্জাতিক

জুনের মধ্যে ইউক্রেনযুদ্ধ বন্ধ চান ট্রাম্প: জেলেনস্কি

  বাংলাদেশ প্রতিদিন 7 February 2026 , 7:50:56

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আগামী জুনের মধ্যে রাশিয়া ও ইউক্রেনের যুদ্ধ বন্ধ চান। এ তথ্য জানিয়েছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। তিনি বলেছেন, প্রায় চার বছর ধরে চলা এ সংঘাত বন্ধে একটি চুক্তিতে পৌঁছাতে যুক্তরাষ্ট্র উভয় দেশকে সময়সীমা বেঁধে দিয়েছে।

শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) কিয়েভে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে জেলেনস্কি বলেন, ‘আমেরিকানরা প্রস্তাব করছে যেন রাশিয়া ও ইউক্রেন আসছে গ্রীষ্মের শুরুর দিকেই যুদ্ধ শেষ করে এবং সম্ভবত তারা এই নির্দিষ্ট সময়সূচি অনুযায়ী উভয় পক্ষের ওপর চাপ তৈরি করবে।’ তবে তার এ মন্তব্য শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) পর্যন্ত প্রচার না করার শর্ত ছিল।

জেলেনস্কি বলেন, ট্রাম্পের প্রশাসন সব ঘটনার জন্য একটি সুনির্দিষ্ট সময়সীমার ওপর জোর দিয়েছে। তারা আগামী সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রে (সম্ভবত মিয়ামিতে) পরবর্তী দফার ত্রিপক্ষীয় আলোচনার প্রস্তাব দিয়েছে। ইউক্রেন ইতোমধ্যে এতে যোগ দেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।

ট্রাম্প ক্ষমতা নেওয়ার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ইউক্রেন যুদ্ধ শেষ করার দম্ভোক্তি করেছিলেন। কিন্তু এক বছরেরও বেশি সময় পার হলেও কোনো শান্তিচুক্তি এখনও অধরা রয়ে গেছে। সমালোচকরা ট্রাম্পের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছেন যে, তিনি রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের মাধ্যমে প্রভাবিত হয়ে ক্রেমলিনের যুদ্ধের বয়ান এবং সর্বোচ্চ দাবিগুলোর দিকে ঝুঁকে পড়ছেন।

সংযুক্ত আরব আমিরাতের আবু ধাবিতে রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে মার্কিন-মধ্যস্থতায় ত্রিপক্ষীয় আলোচনার পর এ নতুন সময়সীমা দেওয়া হলো। তবে ওই আলোচনায় খুব সামান্যই অগ্রগতি হয়েছে, কারণ উভয় পক্ষই তাদের বিপরীতমুখী দাবিতে অনড় ছিল।

ক্রেমলিন দাবি করেছে যে, ইউক্রেনকে শিল্পসমৃদ্ধ পূর্ব দনবাস অঞ্চল (দোনেৎস্ক ও লুহানস্ক) থেকে সরে যেতে হবে, যেখানে বর্তমানে সবচেয়ে ভয়াবহ যুদ্ধ চলছে। কিয়েভ এই শর্ত দৃঢ়ভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে। এছাড়া ইউক্রেনের সংবিধান অনুযায়ী রাশিয়ার দাবি করা এ পূর্বাঞ্চলীয় ভূখণ্ড ছেড়ে দেওয়া নিষিদ্ধ।

উভয়পক্ষ ১৫৭ জন করে যুদ্ধবন্দী হস্তান্তরের বিষয়ে একমত হয়েছে। ইউক্রেন ও যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তাদের পাশাপাশি রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় নিশ্চিত করেছে যে, ৫ ফেব্রুয়ারি এই বিনিময় সম্পন্ন হয়েছে।

শনিবার জেলেনস্কি আরো জানান, চুক্তির আওতায় রাশিয়ার সঙ্গে যুদ্ধবন্দী বিনিময় অব্যাহত থাকবে।

মার্কিন বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ, যিনি ডোনাল্ড ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনারের সঙ্গে আমেরিকান মধ্যস্থতাকারী দলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন, বৃহস্পতিবার বলেন যে শান্তি আলোচনায় ‘উল্লেখযোগ্য কাজ বাকি থাকলেও’ বন্দী বিনিময় প্রমাণ করে যে ‘নিরবচ্ছিন্ন কূটনৈতিক তৎপরতা বাস্তব ফলাফল বয়ে আনছে এবং ইউক্রেন যুদ্ধ শেষ করার প্রচেষ্টাকে এগিয়ে নিচ্ছে।’

তবে নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে সমাধান না এলে কী ব্যবস্থা নেওয়া হবে, সে বিষয়ে মার্কিন কর্মকর্তারা কিছু জানাননি। এমনকি বিষয়টি নিয়ে রাশিয়ার আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্যও পাওয়া যায়নি।

আজকালের কন্ঠ/আর বি

আরও খবর:

Sponsered content