আন্তর্জাতিক

অবিলম্বে মার্কিন নাগরিকদের ইরান ছাড়ার নির্দেশ

  বাংলাদেশ প্রতিদিন 13 January 2026 , 5:50:24

ইরানে চলমান অস্থিরতা আরও তীব্র হওয়ায় মার্কিন নাগরিকদের অবিলম্বে দেশটি ত্যাগ করার আহ্বান জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। সোমবার (১২ জানুয়ারি) ইরানের জন্য ভার্চুয়াল মার্কিন দূতাবাস এক নিরাপত্তা সতর্কবার্তায় মার্কিন নাগরিকদের ‘বিলম্ব না করে ইরান ছাড়তে’ নির্দেশ দিয়েছে।

নিরাপত্তা সতর্কবার্তায় দূতাবাস জানায়, এখনই ইরান ছাড়ুন। একই সঙ্গে মার্কিন নাগরিকদের যুক্তরাষ্ট্র সরকারের কোনো ধরনের সহায়তা ছাড়াই দেশত্যাগের পরিকল্পনা করতে বলা হয়েছে।

যারা কোনো কারণে ইরান ছাড়তে পারছেন না, তাদের উদ্দেশে সতর্কবার্তায় বলা হয়, যদি আপনি দেশ ছাড়তে না পারেন, তাহলে নিজের বাসভবনের ভেতরে অথবা অন্য কোনো নিরাপদ ভবনে অবস্থান করুন।

এছাড়া সতর্কবার্তায় ইরানে অবস্থানরত মার্কিন নাগরিকদের ভবিষ্যতে ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন থাকার বিষয়টি মাথায় রেখে বিকল্প যোগাযোগ ব্যবস্থার পরিকল্পনা করতে বলা হয়েছে। পরিস্থিতি নিরাপদ থাকলে স্থলপথে আর্মেনিয়া অথবা তুরস্ক হয়ে ইরান ছাড়ার বিষয়টিও বিবেচনায় নিতে বলা হয়েছে।

সতর্কবার্তায় আরও জানানো হয়, মার্কিন-ইরানি দ্বৈত নাগরিকদের ইরান ত্যাগ করতে হলে অবশ্যই ইরানি পাসপোর্ট ব্যবহার করতে হবে। কারণ, ইরান সরকার দ্বৈত নাগরিকত্ব স্বীকৃতি দেয় না ও দ্বৈত নাগরিকদের শুধুমাত্র ইরানি নাগরিক হিসেবেই বিবেচনা করে।

ভার্চুয়াল দূতাবাস সতর্ক করে জানায়, মার্কিন পাসপোর্ট দেখানো বা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক রয়েছে- এমন কোনো প্রমাণ দেখানোই ইরানি কর্তৃপক্ষের কাছে কাউকে আটক করার যথেষ্ট কারণ হতে পারে।

এদিকে ইরানে চলমান তীব্র বিক্ষোভ ও সরকারি দমন-পীড়নের প্রতিক্রিয়ায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন তেহরানের ওপর সামরিক হামলার হুমকি অব্যাহত রেখেছে।

হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সংকট নিরসনে কূটনীতিই অগ্রাধিকার পাচ্ছে, তবে প্রয়োজনে বিমান হামলার মতো কঠোর সামরিক পদক্ষেপও গ্রহণের জন্য প্রস্তুত রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।

হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লিভিট সোমবার (১২ জানুয়ারি) সংবাদ সম্মেলনে জানান, ডোনাল্ড ট্রাম্প সর্বদা সব ধরনের বিকল্প খোলা রাখতে পছন্দ করেন। তার ভাষায়, কমান্ডার ইন চিফ হিসেবে প্রেসিডেন্টের সামনে থাকা অসংখ্য বিকল্পের মধ্যে বিমান হামলা অন্যতম একটি পথ।

তিনি আরও জোর দিয়ে বলেন যে ট্রাম্প সামরিক শক্তি প্রয়োগে পিছপা হন না এবং ইরান এটি খুব ভালোভাবেই জানে। তবে মার্কিন প্রশাসন কূটনৈতিক আলোচনাকেও গুরুত্ব দিচ্ছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

আজকালের কন্ঠ/আর বি

আরও খবর:

Sponsered content