গণমাধ্যম

কুমিল্লায় রেলস্টেশনে চোরাকারবারির ভিডিও ধারণে বাধা দুই সাংবাদিককে মারধর ও ছিনতাইয়ের অভিযোগ

  বাংলাদেশ প্রতিদিন 20 May 2026 , 4:27:30

কুমিল্লা ব্রাহ্মণপাড়ার শশীদল রেলস্টেশনে ট্রেনে ভারতীয় চোরাই পণ্য ও মাদক পাচারের ভিডিও ধারণ করতে গেলে দুই সাংবাদিকের ওপর হামলা, মারধর, মোবাইল ফোন ও নগদ টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ব্রাহ্মণপাড়া থানায় লিখিত এজাহার দায়ের করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (১৯ মে) রাত আনুমানিক সাড়ে ১০টার দিকে ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার শশীদল রেলস্টেশনে এ ঘটনা ঘটে।

ভুক্তভোগীরা হলেন বুড়িচং প্রেস ক্লাবের সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক ও জাতীয় দৈনিক কালের কণ্ঠ’র বুড়িচং-ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলা প্রতিনিধি আক্কাস আল মাহমুদ রিদয়, এবং প্রেস ক্লাবের প্রচার সম্পাদক, দৈনিক কুমিল্লা প্রতিদিন পত্রিকার প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক মোঃ শরিফুল ইসলাম সুমন।

অভিযোগে বলা হয়, চট্টগ্রামগামী ‘চট্টলা এক্সপ্রেস’ ট্রেন স্টেশনে বিরতিকালে ট্রেনে ভারতীয় অবৈধ মালামাল ও মাদক উঠানোর দৃশ্য মোবাইল ফোনে ধারণ করার সময় কবির হোসেন, পারুল আক্তার, রাসেলসহ অজ্ঞাতনামা ১২-১৪ জনের একটি সংঘবদ্ধ দল সাংবাদিকদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়।

পরে সাংবাদিকরা মোটরসাইকেলে ঘটনাস্থল ত্যাগ করার সময় স্টেশনের বাইরে তাদের গতিরোধ করে এলোপাতাড়িভাবে মারধর করা হয় এবং সংবাদ প্রকাশ করলে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয় বলে ভুক্তভোগীরা জানান।

একপর্যায়ে হামলাকারীরা সাংবাদিকদের ব্যবহৃত মোবাইল ফোন ও তাদের কাছে থাকা নগদ টাকা ছিনিয়ে নেয় বলেও এজাহারে দাবি করা হয়েছে। হামলায় আহত দুই সাংবাদিক হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শশীদল বিজিবি (বিওপি) ক্যাম্পের প্রায় ১০০ গজ দূরে অবস্থিত শশীদল রেলস্টেশন দিয়ে দীর্ঘদিন ধরে ভারতীয় চোরাই পণ্য ও মাদক পাচারের অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, কয়েকটি সংঘবদ্ধ চক্র প্রশাসনের অসাধু কর্মকর্তাদের ম্যানেজ করে সীমান্ত এলাকা থেকে অবৈধ পণ্য এনে ট্রেনযোগে দেশের বিভিন্ন স্থানে পাচার করে আসছে।

এছাড়া অভিযোগ রয়েছে, ট্রেন স্টেশনে প্রবেশের সময় বিদ্যুৎ চলে যায় এবং ট্রেন ছেড়ে যাওয়ার পর আবার বিদ্যুৎ ফিরে আসে। এই সুযোগে চোরাকারবারিরা অন্ধকারে অবৈধ মালামাল ট্রেনে তোলে বলে স্থানীয়রা দাবি করেছেন।

স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, কুমিল্লা-৫ (বুড়িচং-ব্রাহ্মণপাড়া) আসনের সংসদ সদস্য হাজী জসিম উদ্দিন নির্বাচিত হওয়ার পর মাদক ও চোরাচালানের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স ঘোষণা করেন এবং নিজেও একাধিকবার সীমান্তে অভিযান পরিচালনা করেন। তবে অভিযানের পরও ট্রেনে চোরাই মালামাল পাচার পুরোপুরি বন্ধ হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে। মাঝে মধ্যে প্রশাসনের অভিযান পরিচালিত হলেও কিছুদিন পর আবারও একইভাবে পাচার কার্যক্রম শুরু হয়ে যায়। অভিযানে ছোটখাটো সদস্যরা ধরা পড়লেও মূল হোতা ও গডফাদাররা ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকায় সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে।

এছাড়াও সাংবাদিকদের ওপর হামলার পাশাপাশি ট্রেনে অবৈধ মালামালের দৃশ্য ভিডিও ধারণ করতে গিয়ে যাত্রীরাও একাধিকবার লাঞ্ছনার শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। কোরবানির ঈদকে কেন্দ্র করে সীমান্তে চোরাকারবারিরা আরও সক্রিয় হয়ে উঠছে বলেও জানা গেছে।

এদিকে ঘটনার পর বিষয়টি শশীদল বিওপির কমান্ডারকে অবগত করতে গেলে সাংবাদিকরা দেখেন, শশীদল ইউনিয়ন পরিষদ সংলগ্ন এলাকায় হামলাকারীদের সঙ্গে আড্ডা দিচ্ছেন কমান্ডারসহ কয়েকজন বিজিবি সদস্য। এ সময় তিনি সাংবাদিকদের ওপর হামলা ও চোরাচালানের বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

এ বিষয়ে শশীদল রেলস্টেশনের স্টেশন মাস্টার আবু তাহের সরকার বলেন “স্টেশনে চোরাকারবারিদের কারণে আমাদের নিরাপত্তা নেই। ট্রেনে চোরাই পণ্য পাচারের কারণে যাত্রীরা ট্রেনে উঠানামা করতে অসুবিধায় পড়ছেন।” তিনি অবৈধ পণ্য পাচারের বিষয়ে রেলওয়ে পুলিশ (জিআরপি)-কে দায়ী করেন। একই সঙ্গে সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনায় নিন্দা জানিয়ে হামলাকারীদের বিচারের আওতায় আনার দাবি জানান।

ব্রাহ্মণপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফারুক হোসেন বলেন “সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনায় থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

এ ঘটনায় ভুক্তভোগীরা জড়িতদের বিরুদ্ধে সুষ্ঠু তদন্ত ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

আজকালের কন্ঠ/আর বি

আরও খবর:

Sponsered content